আইসিইউর সামনে ১৩ দিন অপেক্ষায় মা, ফেরেননি একমাত্র ছেলে

0
prothomalo-bangla_2026-06-24_iaroayaf_2-sajid-in-critical-condition-mother-distraught

চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় মাথায় ছোড়া একটি ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়া ২১ বছর বয়সী সাজিদ চৌধুরী ওরফে রাফি ২২ জুন মারা যান। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন বিচার আর উত্তর খুঁজছেন মা।

তানিয়া সিকদার বলেন, ‘১৩ দিন আইসিইউর সামনের সিঁড়িতে থাকলাম। রাতদিন সেখানেই থাকতাম। ছেলেটা বাঁচল না, চলেই গেল।’

এই মায়ের দাবি, সম্পত্তির জের ধরে তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার চেয়েছেন।৯ জুন দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন সাজিদ। এর কিছুক্ষণ আগেই তিনি তাঁর ফুফুকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। সাজিদ ছিলেন রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।বাসার পথে থাকা অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তি সাজিদের ওপর হামলা করেন। পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন। সাজিদ মোটরসাইকেল নিয়ে কাছে আসতেই তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ছুড়ে মারা হয় ইট।

মাথায় ইটের আঘাত লাগার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন সাজিদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রথমে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টা হিসেবে প্রচার পেলেও তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা সাজিদের পূর্বপরিচিত।

আহত অবস্থায় সাজিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাথায় মারাত্মক আঘাত ও মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। ২২ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

সে সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, সাজিদের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।

আইসিইউর সামনে মায়ের ১৩ দিন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর সামনে ১৪ জুন কথা হয়েছিল তানিয়া সিকদারের সঙ্গে। তখনো তিনি আশা ছাড়েননি। আর ২৩ জুন যখন তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়, তখন তিনি বরিশালে। সেখানে নানাবাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে সাজিদকে।

মুঠোফোনে কথা বলতে গিয়ে তানিয়া সিকদার বলেন, ‘এটাই আমার একমাত্র সন্তান ছিল। ছেলেটা অনেক যন্ত্রণা নিয়ে চলে গেল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!