কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক মানতে না পারায় খুন করে বাবা-মা

0
ASjpgcollection---2026-07-11T125513894-20260711065519

খুলনায় বস্তায় লাশ পাওয়া কিশোরীকে তার বাবা-মা হত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কিশোরীর মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাবা এখনো পলাতক।

১৬ বছর ওই বয়সি কিশোরীর মা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।

শনিবার সকালে খুলনা মহানগর পুলিশ-কেএমপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান বলেন, বুধবার রাতে নগরের প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় না পাওয়ায় পরদিন খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে পুলিশ।

পরে পিবিআই, সিআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পর কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়।

নিহত কিশোরীর নাম আরফানা হোসেন নির্জনা। সে নগরীর আরিফা ইয়াসমিন ও আলিম হোসেন দম্পতির একমাত্র মেয়ে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, খবর পেয়ে লাশ শনাক্ত করতে আসা নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন (৩৫) প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দির বরাতে তিনি জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় নির্জনা এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। সম্প্রতি তার বাল্যবিবাহ হয়। তবে আগের পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে চলে যেতে চাইলে তা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।

বুধবার এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মা মেয়েকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে বাবা আলিম হোসেন কাঠের ফালি দিয়ে মেয়ের মাথায় আঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডটি আড়াল করার চেষ্টায় এ দম্পতি মেয়ের লাশ কবুতরের খাবার বহনের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রাখেন। পরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার তিন নম্বর সড়কে ফেলে যান।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় নির্জনার বাবা-মাকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!