পেলে-কাফু-রোনালদোদের রেকর্ডে ভাগ বসালেন মেসি

0
image_309308_1784151899

বয়সটা কেবলই একটা সংখ্যা, ফুটবল বিশ্বে এই প্রবাদটি যেন বারবার প্রমাণ করে চলেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও তিনি আর্জেন্টিনার সেই অবিকল্প পথপ্রদর্শক, যার মায়াবী ছোঁয়ায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়ে আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা।

ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে মেসির পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকের মনেই ছিল রাজ্যের সংশয়। তবে মাঠের খেলায় সব সংশয় তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের এই একক বিস্ময়। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে ৮ গোল করে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এই আর্জেন্টাইন ১০ নম্বর জার্সিধারী।

আগামী রোববার নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে স্বপ্নের ফাইনালে মাঠে নামবেন মেসি।

আর এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার মাধ্যমেই বিশ্ব ফুটবলের এমন এক এলিট গ্রুপ বা অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে যাচ্ছেন তিনি, যেখানে পৌঁছাতে পেরেছেন ইতিহাসের হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন ফুটবলার।

মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মারাকানায়। সেবার অতিরিক্ত সময়ের গোলে জার্মানির কাছে হেরে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। এরপর দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে নিজের সেই আজন্ম লালিত সোনালী ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি।

তিহাসে তিন বা ততোধিক ফাইনালের মঞ্চে পা রাখা ফুটবলারের সংখ্যা অনেক কম। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এবার সেই তালিকায় রাজকীয় প্রবেশ ঘটল মেসির। এর আগে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফু একমাত্র ফুটবলার হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২) খেলেছেন এবং তিনটিতেই মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

এ ছাড়া ব্রাজিলের পেলে ও রোনালদো নাজারিও এবং পশ্চিম জার্মানির লোথার ম্যাথিউস ও পিয়েরে লিটবারস্কিও তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালের স্কোয়াডে ছিলেন।

তবে পেলে, রোনালদো কিংবা জার্মান তারকাদের কেউই চোট অথবা কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে তাদের দলের হয়ে তিনটি ফাইনালের প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পাননি।

সেখানেই অনন্য মেসি। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের মঞ্চে বুটজোড়া গলিয়ে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই কাফুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে সরাসরি মাঠে লড়াই করার রাজকীয় কীর্তি গড়বেন আধুনিক ফুটবলের এই মহানায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!