মুখ খুললেন ফাইনালে লাল কার্ড দেখা ফার্নান্দেস
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এনসো ফার্নান্দেস। তার ভাষায়, দেশের জার্সি পরার চেয়ে বড় সম্মান তার জীবনে আর কিছু নেই।
২৫ বছর বয়সী এই মধ্যমাঠের ফুটবলার ফাইনালে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার বিদায়ের পর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোল হজম করে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় এনসো লিখেছেন, ‘সময় যত যায়, ততই বোঝা যায় একটি ফলাফলের চেয়েও বড় কিছু আছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বছরের পর বছর এই দলটি আর্জেন্টিনাকে সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এই দল শিখিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানেই শুধু জেতা নয়, বরং জার্সির জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া এবং কখনো হাল না ছাড়া।’
এনসো বলেন, ‘এমন একটি দলের অংশ হতে পারা আমার জন্য গর্বের। এই দল সব সময় নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়েছে এবং গর্ব, বিনয় ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছে।’
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘আর্জেন্টিনার সব সমর্থককে ধন্যবাদ। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের পাশে থাকার জন্য, নিঃস্বার্থ সমর্থনের জন্য এবং বিশ্বের যেখানেই খেলি না কেন, আমাদের ঘরের অনুভূতি দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘নিজ দেশের জার্সি পরা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মান। এই জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ যতবার পাব, ততবারই নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়ব।’
ফাইনালের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে প্রতিবাদের কারণে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এনসো। এরপর যোগ করা সময়ে স্পেনের এক ডিফেন্ডারকে কঠিন ট্যাকলে ফেলে দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর একজন কম নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হয় আর্জেন্টিনাকে।
অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার।
দলের রক্ষণভাগের ফুটবলার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘এবার আর আমাদের ভাগ্যে শিরোপা লেখা ছিল না। বিশ্বাস করুন, এই কষ্ট খুব গভীর। এই সুন্দর গল্পটা আমাদের চেয়ে বেশি আর কেউ এগিয়ে নিতে চায়নি।’
রোমেরো আরও বলেন, ‘আমরা আবারও ট্রফি দেশে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। কিন্তু একটি বিষয় কখনো বদলাবে না, আমরা সর্বোচ্চ নিবেদন নিয়ে লড়েছি।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা রানার্সআপ হয়েছি, কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সির মর্যাদা রক্ষায় গর্ব ও দায়িত্ববোধ থেকে কখনো একচুলও সরে আসিনি।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রোমেরো বলেন, ‘এখন আবার উঠে দাঁড়ানোর সময়। আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, আরও বেশি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে এই জার্সি আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফিরে যায়। কারণ ফাইনালে জায়গা কেউ উপহার দেয় না, সেটি অর্জন করে নিতে হয়।’
এদিকে ফাইনাল শেষে স্পেনের খেলোয়াড়দের উদ্যাপনের সময় কয়েকজনের দিকে ঘুষি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠের ফুটবলার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে। ম্যাচ-পরবর্তী সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
তবে নিজের বার্তায় পারেদেস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। বরং দলের লড়াই নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা। আজও, সব সময়ই তোমাকে ভালোবাসি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘দেশবাসীকে প্রাপ্য আনন্দ দিতে না পারার কষ্ট নিয়ে লিখছি। কিন্তু একই সঙ্গে গর্বও আছে, কারণ আমরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছি এবং আবারও দেশের পতাকাকে উঁচুতে তুলে ধরেছি।’
শেষে তিনি বলেন, ‘এই দলের সঙ্গে থাকা প্রত্যেককে ধন্যবাদ। এই জার্সির জন্য শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত যারা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য আমি গর্বিত।’
