শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার

0
6a69bab134ee1

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। এলাকায় তার ছিল সাধারণ জীবনযাপন। কিন্তু শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর চট্টগ্রামে একের পর এক খুনে নাম জড়ায় তার। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালও হয়েছে।

ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড। দেশ ছেড়ে এখন বসবাস করছেন দুবাই। সেখান থেকেই ফোনে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ফোন করে চাঁদাবাজি করছেন। তার কথামতো চাঁদা না দিলে ওই ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে চলছে গুলি-হামলার ঘটনা।

১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরে র‌্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢোকে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়।
সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এই চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় বলা হয়। পরে ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মোবাইল ফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তারা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতিমাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার দুদিন পর, গত সোমবার দুপুরে নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এক্সেস রোডের মরিয়ম হাইটস ভবনের ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। 

হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগটি নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে ওই দিনই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!