দিনাজপুরে গোয়ালঘর থেকে ৫৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় একটি বসতবাড়ির গোয়ালঘরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে রংপুর র্যাব-১৩। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রংপুর র্যাব-১৩।
গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার গোবিন্দপাড়া গ্রামের মৃত শহীদুল্লাহ ইসলামের ছেলে মো. ওসমান গনি (৪৫), সাহাডুবী গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে মো. সাকিব ইসলাম (১৯) এবং গোবিন্দপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মো. আইনুল হক (৪০)। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-১, র্যাব-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল বীরগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের বাসিন্দা মো. ওসমান গনির (৪৫) বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
একপর্যায়ে তার গোয়ালঘরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৫৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের যোগসাজশে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা গাঁজার চালানটি বিক্রির উদ্দেশে গোয়ালঘরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে র্যাব।
রংপুর র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাঁজার উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
র্যাব জানায়, মাদক নির্মূল ও সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাকে ব্যবহার করে যাতে কোনো মাদক চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তার তিনজনকে উদ্ধার হওয়া গাঁজাসহ বীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
