দুই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছয় যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

0
-1785826177

দুই তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) ও মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)।

আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি পাঁচ আসামিকে কারাগার থেকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। রায়ের পর সাজার পরোয়ানা দিয়ে তাঁদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম বলেন, আসামিদের স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে তা ভুক্তভোগী বা তাঁদের পরিবারকে দিতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলা ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী তাঁদের এক বন্ধুর জন্মদিন উদ্‌যাপনে ঢাকার শুভাঢ্যা এলাকার বাসা থেকে বের হন। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তাঁরা কেরানীগঞ্জ যান। সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁরা বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় আসামিরা তাঁদের পথরোধ করেন। দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর করা হয়। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের টাকাসহ মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর দুই তরুণীকে তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন আসামিরা। তাঁরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তাঁদের মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেন। ভুক্তভোগীদের বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। ঘটনার চার দিন পর এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা এক ভুক্তভোগীর মুঠোফোনে ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল ছয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা–পুলিশ। পরে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!