*** মেঘনায় ট্রলারডুবি: ৩০ ঘণ্টায়ও নিখোঁজ একই পরিবারের ৪ জন ***

0
825256897_962911616219415_2711980807357707722_n

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও একই পরিবারের নিখোঁজ চার সদস্যের সন্ধান মেলেনি। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রামের হেলালউদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজিব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫)।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জনের একটি দল ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। তাদের সঙ্গে ছিল বিয়ের সামগ্রী, দুটি গরু ও একটি খাসি। মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

এ সময় আমান সিমেন্টের একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। তবে পানিতে নিখোঁজ হন হেলালউদ্দিন, সজিব, সামিয়া ও সামিন। একই ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারী নিখোঁজ হন এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ঢাকা থেকে আসা ডুবুরি দল রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত নদীতে তল্লাশি চালালেও নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্ধকারের কারণে রাতে অভিযান বন্ধ রাখা হয়।

শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ট্রলারের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দুটি গরু ও একটি খাসির মরদেহ পাওয়া যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিয়েবাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত এবং বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোনারগাঁ থানা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নূরে ইয়াছিন নোবেল।

নিহত রায়েশা বেগমের মরদেহ বৃহস্পতিবার রাতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশ তার বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে। রায়েশা বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।

বিয়ের কনে সাজিয়া আক্তারের চাচা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা আমাদের চার আত্মীয় এখনো নিখোঁজ। আর রায়েশা ফুফাতো বোন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। বিয়ের বাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে।’’

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, রাতের অন্ধকারের কারণে বৃহস্পতিবার উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে ডুবুরি দল আবারও তল্লাশি শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কোস্টগার্ডও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, মেঘনায় ট্রলারডুবির পর নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!