দুদকের নতুন মামলায় ছেলেসহ গ্রেপ্তার শাজাহান খান

0
news_1791101948311

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান ও তার ছেলে মো. আসিবুর রহমানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রাখার অভিযোগে করা মামলায় আজ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবীরের আদালত এ আদেশ দেন। 

আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাহজাহান খানের বিরুদ্ধে দুদক যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। একটি ফ্ল্যাটের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাটটি ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ক্রয় করা সেই ফ্ল্যাটের মূল্য তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তার বৈধ সম্পদের পরিমাণ দেড় কোটি টাকা। সেই টাকার ট্যাক্স ২০১২ সাল থেকে রেগুলার দিয়ে আসতেছেন। 

এদিন আদালতে শাজাহান খানকে পুলিশি পাহারায় হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের সিড়ি দিয়ে নামার সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এনসিপিকে নিয়ে কি বলব, তারা জামায়াতের সাথে মিশে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। 

অভিযোগে বলা হয়, আসিবুর রহমানের নামে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৭ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৭১৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৭ টাকা। এর বাইরে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০১ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে, এসব সম্পদ ও ব্যয়ের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস এবং দায়-দেনার হিসাব পর্যালোচনা করে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালে সরকারি দায়িত্বে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানকে ওই সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের সম্পদ ও আয়সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করে মামলাটি দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছিল। দুদকের অনুমোদনের পর ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!