দ. কোরিয়াকে ‘বিরক্ত’ করতে সীমান্তে মাইক বাজাবে উ. কোরিয়া

0
images (2)

দৈনিক বর্তমান দিনকাল প্রতিবেদন

দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে পুনরায় বিশালাকার লাউডস্পিকার (মাইক) বসানো এবং নতুন সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। একই সঙ্গে সিউলকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং জানান, চলতি অক্টোবর মাসের শেষের মধ্যেই পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে। এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে সেনা দুর্গ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি।

কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার এবং একাধিক স্থানে ফাঁকা গুলি বা ‘ওয়ার্নিং শট’ ছুড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।ফাঁকা গুলির বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এই সতর্কতামূলক গুলির কারণে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তাদের বাহিনীকে ‘বিনা দ্বিধায় ও নির্মমভাবে নির্মূল’ করা হবে। 

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নেওয়া পদক্ষেপকে ‘আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক’ বলে দাবি করেছে। সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ কমান্ডের (ইউএনসি) সহায়তায় ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার যে পদক্ষেপ সিউল নিয়েছে, কিম ইয়ো জংয়ের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে সেই পদক্ষেপগুলো কার্যকর হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, উত্তর কোরিয়া হুমকি বাস্তবায়ন করলে সিউলও ‘সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব’ দেবে।

কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের মধ্যবর্তী বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধ এক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর থেকে দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে এই ‘ডিএমজেড’ সীমান্ত। ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশই এই সীমান্তে প্রোপাগান্ডা বা প্রচার চালনার জন্য বড় বড় মাইক ব্যবহার করে আসছে।

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের মাইকে জনপ্রিয় কে-পপ গান ও জাতীয় সংবাদ সম্প্রচার করত, যা পিয়ংইয়ংকে চরম ক্ষুব্ধ করত। 

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর লি জে-মিয়ং দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে গত বছর সীমান্তে মাইক থেকে বার্তা সম্প্রচার বন্ধ করেন এবং লাউডস্পিকারগুলো ভেঙে ফেলেন। এর জবাবে উত্তর কোরিয়াও প্রচার বন্ধ রেখেছিল। তবে পিয়ংইয়ং আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ২০২৪ সাল থেকেই সীমান্তে স্থায়ী সীমানা প্রাচীর তৈরি, মাইন স্থাপন ও তারকাঁটার বেড়া দেওয়ার কাজ জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার দুই সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর সিউল তার দায় উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপালেও পিয়ংইয়ং তা অস্বীকার করে ‘বানানো গল্প’ বলে দাবি করে।

সিউলের কিউংনাম বিশ্ববিদ‌্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল মনে করেন, কিম ইয়ো জংয়ের এই হুমকির অর্থ এই নয় যে মাইকগুলো আজই চালু হয়ে যাবে। তবে এটি প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের প্রশাসনের জন্য এক ‘বিশাল রাজনৈতিক ও সামরিক দ্বিধা’ তৈরি করেছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!