রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দুই ‘অস্ত্রধারী’ গ্রেপ্তার

0
ctg-arrested-elias-280726-1785250520

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার দুজন সরাসরি হত্যায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতার হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। কী কারণে ও কার নির্দেশে মাসুদুর হককে হত্যা করা হয়েছে, এ প্রশ্নের উত্তরে এসপি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।

গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল, দুজনের কাছে শটগান ছিল।

হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!