যুদ্ধে ধ্বংসের বদলে নেতৃত্ব শক্তিশালী হয়েছে ইরানের

0
a5be1e40-16e8-11f1-801d-ed3cff6bf876.jpg-600x337

ইরান যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং দেশপ্রেমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইরানের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ইরান যুদ্ধে প্রধান লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আর তা হলো- শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করা। বিপরীতে, দেশপ্রেমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পশ্চিমা শক্তিকে প্রতিহতের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানে অনঢ় থেকেছে তেহরান। রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের অজুহাতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। তাদের প্রথম দিনের হামলাতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ওয়াশিংটন-তেল আবিবের ধারণা ছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তীব্র পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এছাড়া যথাসময়ে আলী খামেনি ছেলে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।
হামলা-পাল্টা হামলার একপর্যায়ে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে শুরু হয় শান্তি আলোচনা। চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে নানা হুমকি-ধামকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে নিজেদের দাবি ও শর্তে অনঢ় থাকে তেহরান।
প্রায় দুই মাস দর কষাকষির পর বৃহস্পতিবার শান্তিচুক্তিতে সই করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধে ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করলেও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব রাজনৈতিক বিজয়ে রূপান্তর হয়নি বলেও মত তাদের।
জানুয়ারিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চললেও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর দেশপ্রেমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় ইরানবাসী। এছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে প্রাণ হারালেও দেশ পরিচালনার পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশেও যার যার অবস্থান থেকে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ইরান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম এই রুট অবরোধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপাকে ফেলে ইরান। হামলা বন্ধের মাধ্যমে প্রণালটি সচল করতে ওয়াশিংটনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!