ইয়াবা কারবারে আরো সক্রিয় রোহিঙ্গারা

0
83679e60-ee6f-11ed-b77c-232898381cd2.jpg

কক্সবাজারে ২০টি রুটে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক আনা হচ্ছে। তাতে জড়িত রয়েছে কমপক্ষে ২৫টি চক্র।

মূল পয়েন্ট ২০টি হলেও স্থল ও সাগরপথসহ পুরো সীমান্তের ২৭১ কিলোমিটার কারবারিরা ব্যবহার করছে ইয়াবার চালান পাচারের কাজে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা পাচারে আরো তৎপর হয়েছে রোহিঙ্গারা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচার, বহন ও সরাসরি কারবারে জড়িত। ক্যাম্পগুলো ইয়াবার একেকটি গুদাম।

রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বহু সদস্য ইয়াবা কারবারে জড়িত। তদুপরি রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে চক্র গড়ে তুলে এবং স্থানীয় কারবারিদের সঙ্গে যৌথভাবে কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মান্নান বলেন, দেশে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মাদক প্রবেশ করে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার মাদক কক্সবাজার অঞ্চল দিয়ে দেশে আসে, যার বড় অংশই ইয়াবা।

তাঁর দাবি, কক্সবাজার অঞ্চলে ১০০ জন শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছেন। তাঁদের কয়েকজন বিদেশে অবস্থান করেও চক্র পরিচালনা করছেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেকনাফে দেশে প্রথমবারের মতো ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ২৫২ জন মাদক কারবারির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫০ জন হচ্ছেন ইয়াবার সবচেয়ে বড় ডিলার।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ৫০ জনের নাম এর আগে পুলিশের সন্দেহভাজন তালিকায়ও ছিল না। পরে তাঁদের অনেককে ইয়াবা চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জেলা পুলিশের তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, ২৫২ জনের মধ্যে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের ৫৩ জন, টেকনাফ পৌরসভার ২১ জন, শাহ পরীর দ্বীপের সাতজন, হ্নীলা ইউনিয়নের ৭৪ জন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭০ জন এবং অন্যান্য এলাকার ২৭ জন ছিলেন।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টেকনাফে ৫৭৫ জন ইয়াবা কারবারির তথ্য উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ইয়াবা কারবারের নিয়ন্ত্রণে আবদুর রহমান বদির প্রভাবের কথাও উল্লেখ ছিল।

এদিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের একটি সীমান্ত এলাকা নিয়েও নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে কয়েকজন পুরনো কারবারি ইয়াবা পাচারে যুক্ত রয়েছেন। পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়াটি হচ্ছে নাফ নদের পারের সবচেয়ে বড় ইয়াবা পাচারের পয়েন্ট। পয়েন্টটি নিয়ন্ত্রণ করছেন একজন প্রভাবশালী নেতা। সঙ্গে আছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই সমর্থক। সোনা মিয়া নামের আরেক কারবারি কয়েক শ শ্রমিক নিয়ে নাফ নদের আঞ্জুমান ঘাট দিয়ে ওপারে নিত্যপণ্য পাচার করে বিনিময়ে ইয়াবা পাচারে জড়িত রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক পাচারের মামলাসহ সার পাচারেরও মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার পুলিশ এবং বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। টেকনাফ সীমান্তেও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সক্রিয় থাকা কারবারিরা এখনো ইয়াবা পাচারে জড়িত রয়েছেন। সাবেক এমপি বদির ভাগ্নে কিং সালমানও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি স্থানীয় একজন জামায়াত নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছেন। শামশুল আলম নামের একজন কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের ইয়াবা কারবারির হয়ে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) সংসদীয় আসনের এমপি এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী এসব বিষয়ে বলেছেন, ‘ইয়াবা পাচারের বিষয়টি নিয়ে আমাদের সরকার অত্যন্ত সজাগ রয়েছে। যদি আমাদের দলীয় কোনো নেতাকর্মী এই কাজে জড়িত থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া এক কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এক কোটি পাঁচ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবার চালান উদ্ধার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!