জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮
জাপানের কুমামোটো প্রিফেকচারে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যুর সঙ্গে ভূমিকম্পের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিতদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।
কাশিমা শহরের একটি বড় শপিং মল ধসে অন্তত পাঁচজন এবং ইয়াতসুশিরো শহরে নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
কিহারা বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান এখন সময়ের সঙ্গে লড়াই।’ তিনি জানান, পুলিশ, দমকল বাহিনী ও সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা জীবিতদের উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরলসভাবে কাজ করছেন।
কুমামোটো প্রিফেকচার সরকার জানিয়েছে, অন্তত ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরো পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কতটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
ভূমিকম্পের পর জাপানের ভূকম্পন তীব্রতা স্কেলে সর্বোচ্চ শিন্দো-৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
তাদের জন্য ৪০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
দুর্যোগকবলিত এলাকার অনেক স্থানে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন এবং ৭৪ হাজার ৮০০ পরিবার পানিবিহীন ছিল। এ অবস্থায় তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পানির জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত পানি পান, টুপি ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেকে গরম থেকে বাঁচতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে থাকলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বা ইকোনমি ক্লাস সিনড্রোম হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। এ ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাঁটাচলা, পা নাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, সরকার পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের খোঁজ নেবেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তিন হাজার ৩০০টি বহনযোগ্য এয়ার কন্ডিশনার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
