গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো ১১২ লাশ উদ্ধার

0
ak_1747212056

সূত্র: বাসস
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলার পর ধ্বংসস্তূপ সরানোর কঠিন অভিযানে আরো ১১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) গাজা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সাবরা এলাকায় ১৩৬ ঘণ্টা ধরে খননকাজ চালিয়ে এসব লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের মধ্যে ৪০ শিশু, ৩৮ নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সাতজনের লাশ রয়েছে।

এই সংস্থাটি হামাসের অধীনে উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে আসছে।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই উদ্ধার অভিযানে তারা সহায়তা করেছে।

গাজায় আইসিআরসির মুখপাত্র আমানি আল-নাউক বলেন, ‘আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজার হাজারো পরিবার কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা তাদের প্রিয়জনদের দেহাবশেষ উদ্ধারের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তাদের জন্য শোক পালন করতে পারে এবং মর্যাদার সাথে দাফন করতে পারে।’

তিনি বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মানবদেহের দেহাবশেষ উদ্ধার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বিষয়।’

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার হয়ে ঘটনাস্থলের দায়িত্বে থাকা কর্নেল মোহাম্মদ আবু দান বলেন, ওই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা আরো ১৫৭টি লাশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, ধ্বংস হয়ে যাওয়া কংক্রিট ও বাঁকানো ধাতব অংশের মধ্যে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ।

গাজায় এখনো হাজারো মানুষের দেহাবশেষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ইসরাইলি বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

গাজার গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এএফপি স্বাধীনভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই বা সংঘাতের পরিস্থিতি পুরোপুরি তুলে ধরতে পারছে না।

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধে ৭৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় এক হাজার ২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এটি ছিল দেশটির জনগণের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!