৩৮ লাখ ঘুস নিয়ে নথি হস্তান্তর, পদোন্নতি আটকে স্বপদে বহাল কর কর্মকর্তা মিতু

0
46c16373fcef7e91c31869d36f0767ef-68b5a8a58f09c

আইনজীবীর মাধ্যমে ৩৮ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে আয়কর নথির কাগজপত্র হস্তান্তর করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর পদোন্নতি আগামী ৮ বছরের জন্য স্থগিত করে স্বপদে বহাল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) এনবিআর থেকে জানানো হয়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে গত ৩১ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) এনবিআর থেকে জানানো হয়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে গত ৩১ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্কেল-৯৩, কর অঞ্চল-৫, ঢাকায় সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠে মিতুর বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের বিনিময়ে তিনি ওই করদাতার আয়কর নথির অধিকাংশ রেকর্ড পরিবর্তন করে নতুন রেকর্ড সংযোজন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পুরনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল-ট্রিবিউনাল আদেশসমূহ এবং অন্যান্য নথিপত্র করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি (আইনজীবী) ওবায়দুল হক সরকার ও তার সহকারী সোহেলের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩(ঘ) বিধি অনুযায়ী ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কৈফিয়তের জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে গত ১৬ মার্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন ও বিভাগীয় মামলার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই বিধিমালার ৪(২)(খ) বিধি অনুযায়ী তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে আগামী ৮ আট বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। 

এর আগে সোমবার ৩৮ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে আয়কর নথির কাগজপত্র হস্তান্তর করায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) এক আদেশে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!