দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ : আইজিপি

0
igp-900x506

আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ইতিমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

দুর্গাপূজায় আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।

সভায় শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাসহ হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!