শিক্ষার্থীর লাখ টাকার আইফোন নিয়ে গেলেন এসআই মেহেদী

0
gazipur-iphone-police-robbery-1791811475

প্রতিবেদক, গাজীপুর

চুরি হওয়া ফোন দাবি করে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কেনা আইফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটুর বিরুদ্ধে। এ সময় ফোন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের অভিযোগ, শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের শফিক মোড় এলাকার বাড়িতে গিয়ে তার কেনা আইফোনটি নিয়ে যান এসআই মেহেদী হাসান টিটু। এ সময় ফোনটি চট্টগ্রাম থেকে চুরি হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আবুল হাসনাত আয়ান তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (শফিক মোড়) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী।

আয়ান জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় কেনেন তিনি। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার বাসায় গিয়ে ফোনটি চোরাই বলে দাবি করেন। এর আগের দিন ফোন করে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যও নেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আয়ানের ভাষ্য, এসআই তাকে জানান, চট্টগ্রামে এক নারীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তার মোবাইল, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ সময় আয়ান ফোন কেনার ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান। পাশাপাশি এসআইয়ের সামনেই দোকানে ফোন করে সেটি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এরপরও এসআই তাকে বলেন, ফোনটি যেহেতু তার কাছে পাওয়া গেছে, তাই সমস্যাটি তারই। এ সময় আয়ানের মামা উপস্থিত ছিলেন। তিনি এসআইকে বলেন, যে দোকান থেকে ফোনটি বিক্রি করা হয়েছে, সেখানে অভিযান চালানো উচিত। আয়ান বৈধভাবে ফোনটি কিনেছেন এবং তার কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আয়ানের অভিযোগ, পরে তাকে ফোনসহ থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান এসআই।

আয়ান আরও বলেন, বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাজধানীর একটি দোকান থেকে নগদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায় ফোনটি কিনেছি। ফোন কেনার সব কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেও ফোন কেনার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

আয়ান বলেন, আমি বৈধভাবে মোবাইল কিনেছি। আমার কেনার সব ডকুমেন্ট রয়েছে। তারপরও আমার টাকার কথা চিন্তা না করে আমার কেনা মোবাইল নিয়ে গেলেন শ্রীপুর থানার এসআই মেহেদী হাসান টিটু। উপরন্তু আমার কাছ থেকে আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুস নিলেন।

তিনি জানান, ফোন নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করে রাখতে এসআইকে অনুরোধ করেন। পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে নিয়ে গেলেও তাকে ভিডিওটি সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়নি।

আয়ানের প্রশ্ন, ফোন কেনার পরও তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন তার ক্ষতিপূরণ ও টাকা উদ্ধারে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তার পরিচিত লোকজন বাসায় নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। পরে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী একটি সিআর মামলা করেন। মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবি থেকে তাকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ফোনটি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছেন।

তবে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দোকান থেকে ফোনটি কিনেছেন—এমন তথ্যও স্বীকার করেন এসআই। শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি শ্রীপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই সাংবাদিক তাকে ভালোভাবে চেনেন এবং স্নেহ করেন। এ সময় তিনি গাজীপুর জেলা পর্যায়ের সরকারি দলের এক শীর্ষ নেতার ভাগ্নে বলেও পরিচয় দেন। শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেখা করে চা-পানের প্রস্তাব দেন।

অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মেহেদী হাসান টিটু নামে একজন এসআই আছেন। একজন এসআই জীবনে এভাবে টাকা নিতে পারেন না, পারবেন না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবেন? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!