চট্টগ্রামের মীরসরাই বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকল্পে কাজ করার সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকারে পঙ্গুত্ব বরণ নয়নের অসয়াত্ব জীবন যাপন নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন
বিশেষ প্রতিনিধি
১৮ অক্টোবর রবিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মুখে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মীরসরাইয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকল্পে ৭ টনের পাইলিংয়ে পা হারানো পঙ্গু নয়ন ও তার পরিবারের সদস্যগণ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর বড় ভাই ইমাম হোসেন এক লিখিত বক্তব্যে বলেন
২০২১ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে বসুন্ধরা গ্রুপে চাকরি নিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী শাখাওয়াত হোসেন নয়ন। ৭ টনের পাইলিং পায়ের ওপর পড়ে কেটে ফেলতে হয়েছে নয়নের পুরো পা। দেশজুড়ে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে চিকিৎসায় নিঃস্ব হওয়া অসহায় পরিবারটির আকুতি—পঙ্গু নয়নের উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একটি চাকরির ব্যবস্থা করার। এই দূর্ঘটনার
৭ টনের বিশাল পাইলিং নয়নের পায়ের ওপর এসে পড়ে এতে তাঁর পা মারাত্মকভাবে থেঁতলে যায়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর পুরো পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। দুর্ঘটনার পর কোম্পানির স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের লোকজন তাঁকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলেও পুলিশ ও চিকিৎসকদের কাছে সত্য গোপন করে দাবি করেন—নয়ন নিজ বাড়ির তিন তলার ছাদ থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রাথমিক ব্যান্ডেজ করিয়ে তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখেই কোম্পানির লোকজন গা ঢাকা দেন।
নয়ন রাতে বাড়ি না ফেরায় তাঁর মা নুরের নেহার বেগম রাত ১১টার দিকে নয়নের সুপারভাইজার ইয়াসিনকে ফোন দিলে জানতে পারেন ছেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি। রাত ১২টার দিকে মা হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসকেরা জানান, যারা নয়নকে এনেছিল তারা তাকে রেখে চলে গেছে। পরবর্তীতে নয়নের মা বসুন্ধরা গ্রুপে বারবার যোগাযোগ করলেও তারা দিন-তারিখ দিয়ে ঘুরাতে থাকে এবং কোনো প্রকার চিকিৎসা বা আর্থিক সহযোগিতা দেয়নি। বাধ্য হয়ে বাবার দেওয়া শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করান মা নুরের নেহার বেগম। বর্তমানে পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে দিন কাটাচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর প্রতি বছর গরিব-দুঃখীদের মাঝে কোটি কোটি টাকার মানবিক ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। কিন্তু নিজেদের প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়া এবং জীবনের আলো নিভে যাওয়া এই তরুণ শ্রমিকের পাশে কেন প্রতিষ্ঠানটি দাঁড়ায়নি—তা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা। পরিবারের দাবি ও আকুল আবেদন পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়া নয়নের ভবিষ্যৎ এবং তাঁর পরিবারের জীবনধারণের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের কাছে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং একটি পুনর্বাসনমূলক চাকরির দাবি জানিয়েছেন নয়নের মা নুরের নেহার বেগম। অন্যথায় পরিবারটিকে চরম মানবিক বিপর্যয় ও অনাহারে দিন কাটাতে হবে। একইসঙ্গে এই পঙ্গু তরুণের সুচিকিৎসা ও বেঁচে থাকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার জোর দাবি জানানো যাচ্ছে।
