ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি আলুর যত গুণ

0
655f634a29337-sweet-potato-233553268-16x9

 লাইফস্টাইল ডেস্ক

বর্তমান সময়ে ঘরে ঘরে সবার ডায়াবেটিস ধরা পড়ছে। অনেকেই চেষ্টা করছেন বিভিন্ন উপায়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনার। সম্প্রতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য খাবার নিয়ে একটি সহজ পরামর্শ দিয়েছেন ভারতীয় পুষ্টিবিদ অঞ্জলি মুখার্জি। 

ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে অঞ্জলি মুখার্জি জানিয়েছেন, স্বাদের সঙ্গে আপস না করেও কীভাবে মিষ্টি আলু সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।

পোস্টে বলা হয়েছে, ‘রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও সুষম খাদ্যতালিকায় মিষ্টি আলু একটি পুষ্টিকর সংযোজন হতে পারে। ’

মিষ্টি আলুর পুষ্টিগুণ

মুখার্জি মিষ্টি আলুর পুষ্টিগুণ তুলে ধরেছেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম এবং বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। বিশেষ করে খোসাসহ মিষ্টি আলু খেলে এর খাদ্যআঁশ হজমের প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে ধীরে ও স্থিতিশীলভাবে বাড়তে সাহায্য করতে পারে। তার মতে, পরিমিত পরিমাণে খেলে মিষ্টি আলু স্বাস্থ্যকর খাবারের একটি অংশ হতে পারে।

মাখন ও মিষ্টি আলুর সংমিশ্রণ কি উপকারী?

মুখার্জি ব্যাখ্যা করেন, ‘মাখনে ভালো ধরনের চর্বি রয়েছে। তাই এই দুটি খাবারের সংমিশ্রণ মিষ্টি আলুতে থাকা তুলনামূলকভাবে কম কার্বোহাইড্রেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স আরও কমিয়ে দেয়।’

গ্লাইসেমিক ইনডেক্স হলো কোনো খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করা বা গ্লুকোজ কত দ্রুত বাড়তে পারে, তার একটি পরিমাপ।  Medplus.govt ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ শর্করাজাতীয় কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত বেশি হয়। এসব খাবার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।

খারাপ কোলেস্টেরল ও হৃদস্বাস্থ্যের উপকারিতা

মিষ্টি আলুর আরও কিছু উপকারিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মিষ্টি আলু ফাইব্রিনোজেন কমায়, যা অ্যাসপিরিনের মতো কাজ করে। ফাইব্রিনোজেন কমে গেলে তা রক্ত পাতলা করার মতো প্রভাব ফেলতে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।’ তার মতে, মিষ্টি আলু হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, মিষ্টি আলু বা মাখন খেলে রক্তে শর্করা, এলডিএল কোলেস্টেরল কিংবা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে কমে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে মাখনের পরিমাণ, খাবারের মোট কার্বোহাইড্রেট এবং ব্যক্তিগত রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!