মাদকের ব্যবসা সহ নারী ব্যবসায়ি দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার পড়ে ও পুলিশের নেই কোনো ভুমিকা

0
KAFRULL

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের আড়ালে মাদক কারবার, জুয়ার আসর ও যৌন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ‘শেরাটন আবাসিক’ নামের ওই হোটেলকে কেন্দ্র করে একটি চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

অভিযোগে বলা হয়, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের মাদবর ম্যানশনের ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত শেরাটন আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন কক্ষে নারীদের ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি মাদক বিক্রি ও সেবনের সুযোগ এবং জুয়ার আসর বসানো হয়। এতে স্থানীয় উঠতি বয়সী যুবকদের একটি অংশ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগকারীর দাবি, হোটেলটিতে বিভিন্ন বয়সী নারীকে এনে যৌন ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়। কেউ এ ধরনের কাজে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া হোটেলটির আশপাশে অবস্থানরত পথচারী ও যুবকদের টার্গেট করে অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও স্থানীয়ভাবে পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদকাসক্ত ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। হোটেলটিতে মাদক সরবরাহ, সেবন এবং জুয়ার কার্যক্রমের পাশাপাশি নারীদের ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্রে হোটেলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে মিরাজ মোল্লা (৪০), মিজান (৪৮) এবং হোটেল ম্যানেজার হিসেবে হাসানুজ্জামান হাসানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মানবপাচার-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, শেরাটন আবাসিক হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অনুমোদন ও ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রয়োজন বলে অভিযোগকারী মনে করছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী শ্রাবন্তী আক্তার নিজেকে দৈনিক বর্তমান দিনকাল পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে বিষয়টি তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হলেও পুলিশের নেই কোনো ভুমিকা আগের মতোই অপরাধ মুলক কর্মকানড চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা, অভিযোগ আছে, কাফরুল থানার পুলিশ উক্ত আবাসিক হোটেল শেরাটন এ অভিযান চালিয়ে কিছুই পায়না। এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীরা গেলে সব ধরনের অপরাধ গুলো দেখতে ঠিকই পায়।

এদিকে, মানবপাচার ও যৌন শোষণসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে বর্তমান আইন অনুযায়ী বিষয়টি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন/অধ্যাদেশে পরিবর্তন এসেছে; ফলে অভিযোগে ২০১২ সালের আইনের ধারা উল্লেখ থাকলেও বর্তমান কার্যকর আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!