মেঘনায় গোসল করতে নেমে জমজ দুই ভাইসহ তিন স্কুলছাত্র নিখোঁজ

0
WhatsApp Image 2026-09-21 at 2.53.32 PM

কাওসারুল মামুন (রাজু), সোনারগাঁ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে তিন স্কুলছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জমজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর এক ছাত্রের সন্ধানে ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভাটি বন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ীমজলিশ এলাকার ফারুক হোসেনের জমজ দুই ছেলে আসেকীন ও আরেফিন। তারা মোগরাপাড়া হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর শিক্ষার্থী আবির বাড়ীমজলিশ এলাকার ভাড়াটিয়া আবদুল আলীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া। আর যাকে পত্যক্ষদর্শী নারী হাতে ধরে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তার নাম ফারিজ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্কুল ছুটির পর চার বন্ধু মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় নদীতে থাকা ‘আল মদিনা-৪’ নামের একটি বলগেটের পাখার স্রোত ও নদীর প্রবল স্রোতের টানে তারা পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। এ সময় তারা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে নদীর পাশে থাকা এক নারী এগিয়ে গিয়ে একজনের হাত ধরে টেনে তুলতে সক্ষম হন। তবে বাকি তিনজন স্রোতের টানে তলিয়ে যায়।

খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর জমজ দুই ভাই আসেকীন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপর নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে ডুবুরি দলের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা বলগেটটির পাশে গোসল করার সময় হঠাৎ বলগেট চালু করা হলে এর পাখার সৃষ্ট স্রোতের টানে তারা বলগেটের নিচের দিকে চলে যেতে থাকে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়রা আরও জানান, ভাটি বন্দর এলাকার ওই স্থানে প্রায় প্রতিবছরই পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা রোধে এলাকাটিকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে সেখানে গোসল ও নদীতে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে দুই জমজ সন্তানকে হারিয়ে তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থীর স্বজনরাও ঘটনাস্থলে কান্নারত অবস্থায় অপেক্ষা করছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

URL has been copied successfully!