রাজবাড়ীতে নারী গার্মেন্টকর্মী হত্যা মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
রাজবাড়ীতে গার্মেন্টকর্মী হাসনা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মো. আলমাস বেপারী নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আলমাস বেপারী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার পূর্ব উজানচর হাজী গফুর মণ্ডলপাড়ার মাহাম বেপারীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত হাসনা বেগম (৩৬) সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের একটি গার্মেন্টে অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে কর্মস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে কাজ শেষে হাসনা গার্মেন্ট থেকে বের হয়ে যান।
পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানার হাবিল মণ্ডলপাড়ায় অনুর বাড়ির দক্ষিণ পাশে কালভার্টসংলগ্ন পাকা সড়কের পূর্ব পাশের ঢালে হাসনা বেগমের মরদেহ পড়ে আছে।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছিল।
নিহত হাসনা বেগমের ছেলে মো. হাসান আলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় দিয়েছেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
