সিলেটে অভিষেক সেঞ্চুরির দেখা হৃদয়ের
সিলেট প্রতিনিধি | দৈনিক বর্তমান দিনকাল
মিরপুরে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তাওহিদ হৃদয়। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন শটে আউট হয়ে হতাশ করেছিলেন সমর্থকদের। তবে সমালোচনার জবাব দিতে খুব বেশি সময় নিলেন না এই বাংলাদেশি ব্যাটার। সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত লড়াই করে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের দেখা পেলেন তিনি।
নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন হৃদয়। ১৭১ বলে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি। তার শতকের ইনিংসটি সাজানো ১১টি চার ও একটি ছক্কায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া এই মাইলফলক উদ্যাপনেও ছিল ভিন্নতা। কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস নয়, বরং হেলমেটের ওপর ব্যাট তুলে ধরে এরপর সিজদায় গিয়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ইনিংসের ৬৯তম ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজের বলে লেগ সাইডে ঠেলে এক রান নিয়েই শতক পূর্ণ করেন হৃদয়। তাঁর এই শতক শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের বিপর্যয়ের মধ্যে একাই লড়াই করে যাওয়ার অসাধারণ উদাহরণ।
হৃদয়ের ব্যাটে যখন রানের চাকা ঘুরছে, তখন অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে বাংলাদেশ। তাঁর সঙ্গে বড় জুটি গড়ার আগেই সাজঘরে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটাররা। মুশফিকুর রহিম ৩৪, লিটন দাস ৮ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬ রান করে বিদায় নেন। ফলে দলের হাল ধরার দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে হৃদয়ের কাঁধে।
তৃতীয় দিন ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে লক্ষ্য ছিল বড় সংগ্রহ গড়ার। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে সেই পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। আউট হওয়া চার ব্যাটারের তিনজনকেই শিকার করেন তিনি।
হৃদয়ের শতকের পরই মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতির সময় দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২০৫ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের তুলনায় তখনো ১৫১ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। অন্য প্রান্তে তাইজুল ইসলাম ১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।
